ভাব সম্প্রসারণ করুন:
সত্য জুতার ফিতা বাঁধতে বাঁধতে মিথ্যা অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে আসতে পারে।
মূলভাব: এই প্রবাদটির মূল বক্তব্য হলো সত্য ধীরগতিতে অগ্রসর হয়, কিন্তু মিথ্যা অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সময়, প্রমাণ ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। অপরদিকে, মিথ্যা কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
সম্প্রসারিত ভাব: সত্যের পথ কখনোই সহজ নয়। সত্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুক্তি, প্রমাণ ও সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই সত্যকে প্রকাশ করার আগে বহুবার যাচাই করতে হয়, বিচার করতে হয় এবং নিশ্চিত হতে হয়। প্রবাদের "জুতার ফিতা বাঁধা” অংশটি এই প্রস্তুতি ও ধীরগতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, সত্যকে প্রকাশ করার আগেই অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু মিথ্যার কোনো ভিত্তি নেই, কোনো প্রমাণের দায় নেই। তাই মিথ্যা সহজেই দ্রুতগতিতে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের স্বাভাবিক কৌতূহল, আবেগ ও উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে মিথ্যা সহজেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের আগেই মানুষ অনেক সময় মিথ্যাকে সত্য বলে ধরে নেয়। যখন সত্য তার প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ প্রকাশিত হয়, ততক্ষণে মিথ্যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে দৃঢ়ভাবে শিকড় গেড়ে বসে। এতে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা, বিভ্রান্তি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় মিথ্যার কারণে নিরপরাধ মানুষও ক্ষতির শিকার হয়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যার গতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একটি গুজব, ভুয়া সংবাদ বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু সেই সংবাদ যে মিথ্যাড়তা প্রমাণ করতে দীর্ঘ সময়, তথ্য ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়। ফলে সত্য প্রমাণিত হলেও ততক্ষণে মিথ্যা বহু মানুষের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে দেয়।
উপসংহার: সত্যের গতি ধীর হলেও তার ভিত অত্যন্ত মজবুত ও স্থায়ী। আর মিথ্যা দ্রুত ছড়ালেও তা অস্থায়ী ও দুর্বল। এই প্রবাদ থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, মিথ্যার অস্থায়ী সাফল্যে বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের সত্যের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে, যাচাই না করে কোনো তথ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যই জয়ী হয়, মিথ্যার পরাজয় অনিবার্য।
বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ হলো বাংলা ভাষার দুটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বাংলা সাহিত্য হলো বাংলা ভাষায় রচিত কবিতা, উপন্যাস, নাটক, গল্পসহ সৃজনশীল ও মননশীল রচনার সমষ্টি, যার সূচনা দশম শতাব্দীতে 'চর্যাপদ' এর মাধ্যমে। অন্যদিকে, বাংলা ব্যাকরণ হলো এমন একটি শাস্ত্র বা বিজ্ঞান, যা বাংলা ভাষার গঠন, প্রকৃতি, ধ্বনি, শব্দ ও বাক্যের নিয়ম-কানুন বিশ্লেষণ করে ভাষার শুদ্ধ রূপ ও প্রয়োগ শেখায়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?